BRAKING NEWS

শরনার্থীরা নন, দেশের প্রধান সমস্যা হল অনুপ্রবেশকরীরা : অমিত শাহ

কলকাতা, ২২ এপ্রিল (হি.স.): বিরোধীরা শুধুমাত্রই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করছে| নরেন্দ্র মোদী বিরুদ্ধে কোনও নেতা তুলে আনতে তাঁরা অপারগ| লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে কলকাতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ| একইসঙ্গে অমিত শাহ জানিয়ে দিলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে বিজেপি জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে| অথচ, বিরোধীদের নির্বাচনী ইস্তাহারে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে কোনও উল্লেখই নেই|’

সোমবার সকালে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ| অমিত শাহ ছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা এবং মুকুল রায় প্রমুখ| এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেছেন, দেশের সুরক্ষাই ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধান লক্ষ্য| কেন্দ্রে ফের বিজেপির সরকার গঠন হওয়ার পর ৩৭০ এবং ৩৫ (এ) ধারা পরিবর্তন করা হবে| একইসঙ্গে অমিত শাহ জানিয়েছেন, ‘শরনার্থীরা নন, দেশের প্রধান সমস্যা হল অনুপ্রবেশকরীরা| বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত শরনার্থীরা এদেশে এসেছেন, তাঁরা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন অথবা খ্রিস্টানই হোক না কেন, বিজেপি ‘সঙ্কল্প পত্র’-তে জানিয়ে দিয়েছে প্রত্যেকেই নাগরিক অধিকার দেওয়া হবে|’ অমিত শাহের কথায়, ‘সর্বপ্রথম নাগরিক সংশোধনী বিল আনা হবে, সমস্ত শরনার্থীদেরই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে| এরপর জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) করা হবে|’ শরনার্থীদের প্রতি অমিত শাহের বার্তা, ‘শরনার্থীরা নন, ভয় পাওয়া উচিত অনুপ্রেবশকারীদের| বাংলায় অনুপ্রবেশ রুখতে পারে বিজেপিই| প্রথমে নাগরিক সংশোধনী বিল আনা হবে, তার পর এনআরসি| শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশেই এনআরসি করা হবে|’

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে অমিত শাহ এদিন বলেছেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলার ৩৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে পারেননি| তৃণমূল সরকার রাজ্যে যে সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করেছে, সারদা-নারদার মতো যে দুর্নীতি ছড়িয়ে রয়েছে, তার বিরুদ্ধে মানুষ সরব হবে| বিজেপিকেই ভোট দেবে বাংলার মানুষ| প্রথম দু’দফায় মমতা বুঝতে পেরেছেন, তিনি হারছেন| সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গর রাজনীতিতে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে লড়তে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই একটি প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ বলেছেন, ‘না, এই মুহূর্তে এমন কোনও চিন্তাভাবনা নেই|’ এদিন ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে খোঁচা দিয়ে অমিত শাহ বলেছেন, ‘যখন বাটলা হাউস এনকাউন্টার হয়েছিল, তখন সন্ত্রাসবাদীদের মৃত্যুতে কেঁদে ফেলেছিলেন সোনিয়াজী| অথচ একজন সাহসী পুলিশ ইন্সপেক্টরের যখন মৃত্যু হয়েছিল, তখন চোখ থেকে জল বেরোয়নি| কংগ্রেসের জবাব দেওয়া উচিত|’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *