প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পার্বতী ত্রিপুরার সাংসৃকতিক ঐতিহ্য খুবই সমৃদ্ধ, পূর্ণ রাজ্য দিবসের অনুষ্ঠানে বললেন রাজ্যপাল
On 22 Jan, 2019 At 04:56 PM | Categorized As Main Slideshow | With 0 Comments
13 Shares

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ জানুয়ারি ৷৷ পার্বতী ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর৷ এর সাংসৃকতিক ঐতিহ্য ও খুবই সমৃদ্ধ৷ এই রাজ্যের যত প্রশংসা করা যায় ততই কম৷ আজ সকালে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য দিবস ২০১৯ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে রাজ্যপাল প্রফেসর কপ্তান সিং সোলাঙ্কি একথা বলেন৷ সবদিক দিয়ে একটি সমৃদ্ধশালী রাজ্য গঠন করার জন্য সবাই এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করে রাজ্যপাল আজকের দিনটির জন্য সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, আজ হচ্ছে সবার জন্য খুশির দিন৷

নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ সমগ্র রাজ্য পূর্ণরাজ্য দিবস উদযাপন করা হয়েছে৷ মূল অনুষ্ঠানটি হয় সকালে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে৷ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ত্রিপুরাবাসীর জন্যি আজ একটি ঐতিহাসিক দিন৷ তবে মনে রাখতে হবে পূর্ণরাজ্য দিবস শুধু একটি প্রতীকি দিবস নয়৷ ত্রিপুরাকে নানা বিষয়ে স্বনির্ভর করে তোলা এবং সব বিষয়ে পূর্ণতা আনার মানসিকতার শপথ আজকের দিনে সবাইকে নিতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে নায়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ার পর উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য উন্নয়নের দুয়ার খুলে যায়৷ এর আগে কেন্দ্রের কোনও সরকারই এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সঠিক মানসিকতা নিয়ে কাজ করেনি তা বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার ত্রিপুরাকে নিজের পায়ে দাড় করানোর জন্য কাজ করছে৷ কোনও রাজ্যকে স্বনির্ভর করে তুলতে প্রথমেই তার জন্য মানসিকতা এবং সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে৷ তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগে ত্রিপুরায় রেলের যে পরিষেবা ছিলো নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার চিত্র আমূল পাল্টে যায়৷ রাজধানী এক্সপ্রেস সহ একের পর এক রেল ত্রিপুরার মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে৷

আখাউড়া দিয়ে বাংলাদেশের সহেগ যোগাযোগের কাজও শুরু হয়ে গেছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত গত বছরের মার্চ মাসে নতুন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে জনতার দরবারের আয়োজন করা হচ্ছে৷ এর আগে রাজ্যবাসী কখনও দেখেননি যে জনতা সচিবালয়ে যাচ্ছে এবং মুখ্যসচিব থেকে রাজ্য প্রশাসনের জন্য পদস্থ আধিকারিকরা তাদের কথা শুনছেন৷ জাতি, ধর্ম, বর্ণ দলমত নির্বিশেষে সব অংশের মানুষ সেখানে যাচ্ছেন সমাজের একেবারে অন্তিম ব্যক্তিটির কথাও মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি শুনছেন৷ এরই নাম গভর্নেন্স৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় ভ্রষ্টাচারমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসনের সর্বত্র ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে৷ সব জায়গায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে স্বচ্ছ নিয়োগনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে৷ বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর টেটের মাধ্যমে যারা চাকরি পেয়েছেন তারা কেউ বলতে পারবেন না যে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি তাদের চাকরির জন্য সুপারিশ করেছেন৷

এটাই হচ্ছে স্বচ্ছতা৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডিজিটালাইজেশন করা রকথা ২০১৪ সাল থেকেই বলে আসছেন৷ কিন্তু এতদিন কেন এই কাজটি করা যায়নি সেই প্রশ্ণ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জলপথে ত্রিপুরায় ছোট জাহাজ আসবে তা এতদিন এই ছোট্ট রাজ্যের কেউ কল্পনাও করতে পারেননি৷ কিন্তু এখন এই বিষয়টিই বাস্তবে রূপ পাচ্ছে৷ এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সহয়তা করছে৷ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সহায়তায় খুব কম সময়ের মধ্যে সোনামুড়ায় নতুন জেটি তৈরি করা হবে এবং এক বছরের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি বাস্তবে রূপ পেলে পণ্য পরিবহনের জন্য ত্রিপুরাকে শুধু জাতীয় সড়কের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না৷ জলপথে জাহাজ সোনামুড়ায় এসে গেল শুধু ত্রিপুরা নয় নিম্ন আসাম, মিজোরামও এতে লাভবান হবে৷ মনে রাখতে হবে নৌপথে পণ্য পরিবহণ খাতে ব্যয় হচ্ছে সবচেয়ে কম৷ ত্রিপুরা হয়ে উঠবে লজিস্টিক হাব৷ তিনি বলেন, এই বিষয়গুলি এতদিন হয়নি কারণ সমস্যা ছিলো মানসিকতার মধ্যে৷

13 Shares

Leave a comment


Powered By JAGARAN – The first daily of Tripura ::: Design & Maintained By CIS SOLUTION