বিরোধী কন্ঠ রোধের চেষ্টা চলছে, তাতে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে ঃ মানিক সরকার
On 10 Aug, 2018 At 01:02 PM | Categorized As Main Slideshow | With 0 Comments

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ আগষ্ট৷৷ বিরোধী কন্ঠ রোধের চেষ্টা চলছে৷ তাতে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ বৃহস্পতিবার

বৃহস্পতিবার আগরতলায় সিপিএমের শাখা সংগঠনগুলির উদ্যোগে জেল ভরো আন্দোলনে জল কামান ব্যবহার করে পুলিশ৷ ছবি নিজস্ব৷

জেল ভরো আন্দোলনে অংশ নিয়ে শাসক দল বিজেপি এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এভাবেই তোপ দাগেন বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ তাঁর কথায়, গণতন্ত্রকে ধবংস হতে দেব না৷

সম কাজে সময় বেতন-সহ ছয় দফা দাবির বিত্তিতে বৃহস্পতিবার গোটা দেশের সঙ্গে সংগতি রেখে রাজ্যেও সিপিএমের শাখা সংগঠনগুলো জেল ভরো আন্দোলন সংগঠিত করেছে৷ তবে ক্ষমতাচ্যুত হবার পাঁচ মাসের মাথায় আয়োজিত এই আন্দোলন কর্মসূচি সিপিএমকে অনেকটা টনিক দিয়েছে, বলা যেতে পারে৷ কারণ, এদিনের কর্মসূচীতে যাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে শাসকদল বিজেপিকে চিন্তায় ফেলবে৷

এদিন রাজ্যে প্রধান কর্মসূচি হয় আগরতলায়৷ প্যারাডাইস চৌমুহনিতে সিপিএমের পাঁচ শতাধিক সমর্থক জড়ো হন মিছিলের জন্য৷ কিন্তু পুলিশ তাদের মিছিল করতে দেয়নি৷ আন্দোলনকারীদের পুলিশ ঘেরাও করে রাখে৷  এক সময় আন্দোলনকারীরা ঘেরাও ভেঙে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ প্রথমে জল-কামান প্রয়োগ করে৷ এতে আন্দোলনকারীরা ক্ষান্ত না হলে পুলিশ পর পর একাধিক টিয়ার গ্যাসের বুলেট ছুঁড়ে৷ তবু আন্দোলন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে উদ্যত হলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন৷ সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদ্যস পবিত্র কর সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আগরতলা শহরের রাজপথে মিছিল করে জেলাশাসকের কাছে স্মারকপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন৷ কিন্তু পুলিশ তাদের কিছুই বলতে দেয়নি৷ এমন কি বিনা প্ররোচনায় পুলিশ তাঁদের উপর চড়াও হয়৷ তাঁর অভিযোগ, পুলিশ এদিন  প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল৷ তাদের হাতে বয়স্ক মহিলারাও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি৷

পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার অজিত প্রতাপ সিং বলেন, আগে থেকে কোনও অনুমতি নেননি আন্দোলনকারীরা৷ তাই তাঁদের আটকাতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ৷ পুলিশ তাঁদের প্রথমে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেছিল৷ কিন্তু তাঁরা পুলিশকে সহযোগিতা করেননি৷ তাই জল কামান, টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়৷ আন্দোলনকারীদের হামলায় পুলিশ কর্মী আহত হলে মৃদু লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় বলেও তিনি জানান৷ এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও আন্দোলন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন৷ তাঁকে এদিনের আন্দোলনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলেও, তিনি কোনও মন্তব্য করেননি৷

তবে, এদিন পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন৷ সাথে জুড়ে দেন ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ে নিজস্ব যুক্তি৷ বিরোধী দলনেতার কথায়, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে অসাম্প্রদায়িক দলগুলি ছত্রভঙ্গ অবস্থায় ছিল৷ তাছাড়া তাদের মধ্যে আভ্যন্তরীন কোন্দল, নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর তখতে বসতে ভীষণভাবে সহায়তা করেছে৷ ফলে, এখন সারা দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে৷

বৃহস্পতিবার আগরতলায় জেল ভরো আন্দোলনে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷ ছবি নিজস্ব৷

সাথে যোগ করেন, রাজ্যেও বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ মানিক সরকারের কথায়, নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর প্রথম বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যের উন্নয়নে বিরোধী দলের তরফে সবরকম সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম৷ কিন্তু, এখন বিরোধীদেরই কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা চলছে৷ তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, কোথাও কোন অন্যায় হলে এর প্রতিবাদ করা যাবে না, বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে৷

তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ নানাভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন৷ অনেকেই সন্ত্রাসের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন৷ সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, গ্রামাঞ্চলে কাজ ও খাদ্যের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে, যোগ করেন মানিক সরকার৷ অথচ, রাজ্য সরকারের এদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই৷ তাই, প্রতিবাদ ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা ছিল না, বলেন মানিক সরকার৷

বৃহস্পতিবার এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আগরতলা প্যারাডাইস চৌমুহনী থেকে সিপিআইএমের মিছিল শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করবে বলে বামেদের পরিকল্পনা ছিল৷ মিছিলে সারা ভারত কৃষক সভা, খেতমজুর ইউনিয়ন, গণমুক্তি পরিষদ, সিআইটিইউ রাজ্য কমিটির সদস্যরা শামিল হন৷  প্যারাডাইস চৌমুহনিতে জনসভা করার পরিকল্পনাও ছিল৷ কথা ছিল সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বক্তব্য পেশ করবেন৷

এদিকে বামেদের জেল ভরো আন্দোলনকে কেন্দ্র শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে থেকেই জোরদার করা হয়৷ নিরাপত্তার খাতিরে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী, রাজ্য পুলিশ, টিএসআর জওয়ানদের৷ সম কাজে সম বেতন সহ ছয় দফা দাবির পাশাপাশি আগামী ১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক৷ জানা গেছে, পুলিশের ছোঁড়া টিআরগ্যাসে আহত হয়েছেন সিপিআইএমের কয়েকজন নেতা৷ এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন প্রাক্তন বিধায়ক রতন দাস, নারী নেত্রী রমা দাস, কৃষ্ণা রক্ষিত৷ তাঁদের আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ এদিকে উদয়পুরে জেল ভরো আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল৷

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষক সভার পক্ষ থেকে অভিযোগ এনে বলা হয়েছে, পুলিশের মারে ২৫ জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন৷ সারা রাজ্যে গণতন্ত্র যেখানে বিপন্ন, সেখানে এদিনের জেল ভরো আন্দোলন যথেষ্ট তাৎপর্য্যপূর্ণ বলে দাবি কৃষক সভার৷ এদিন সারা রাজ্যে ১১ হাজারের অধিক সমর্থক জেল ভরো আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি সংগঠনের৷

এদিকে, মিছিলকে ঘিরে গন্ডাছড়ায় এসডিপিও আক্রান্ত হয়েছেন৷

Leave a comment


Powered By JAGARAN – The first daily of Tripura ::: Design & Maintained By CIS SOLUTION