BRAKING NEWS

স্পেশাল কমান্ডোর গুলিতে ধরাশায়ী জিএনএলএ-প্রধান সোহন ডি শিরা

তুরা (মেঘালয়), ২৪ ফেব্রুয়ারি, (হি.স.) : বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ধরাশায়ী হয়েছে মেঘালয়ের দুর্ধর্ষ গারো জঙ্গি সংগঠন গারো ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (জিএনএলএ)-প্রধান সোহন ডি শিরা।
মেঘালয়ের পুলিশ-প্রধান এসবি সিং এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, শনিবার কাকভোরে পূর্ব গারোপাহাড় জেলার সামান্দা ব্লক এলাকার এক ঘন জঙ্গলে তাকে ধরাশায়ী করেছে প্যারা কমান্ডো বাহিনী।
এদিকে পূর্ব গারোপাহাড় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে সংসাক নির্বাচন কেন্দ্র এলাকার সামন্দা ব্লকের অন্তর্গত আদাংপাক গ্রামে ক্র্যাক কমান্ডোর ১০ সিকিউরিটি ফোর্সের এক সশস্ত্র দল অভিযান চালিয়েছিল। শেষ রাতের দিকে জিএনএলএ-এর শিবির ঘিরে ফেলে স্পেশাল কমান্ডো বাহিনী। শুরু হয় দু পক্ষের তুমুল গুলির লড়াই। এতে নিকাশ হয়েছে দুর্ধর্ষ জিএনএলএ-প্রধান সোহন ডি শিরা।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, সোহন ডি শিরা মেঘালয় পুলিশের প্রাক্তন ডিএসপি ছিলেন। পুলিশের পদস্থ পদ ছেড়ে গত প্রায় ছয় বছর আগে পালিয়ে গিয়ে এই জঙ্গি সংগঠন গড়েছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সন্দেহভাজন জিএনএলএ-র বোমা ও ধারা গুলি বর্ষণে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল মেঘালয়ের উইলিয়ামনগরের এনসিপি প্রার্থী জনাথন এন সাংমা, তাঁর দুই দেহরক্ষী এবং এস সমর্থকের। এর পর জঙ্গি দমনে নামানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী।
আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মেঘালয় বিধানসভার নির্বাচন। জনাথন ছিলেন এনসিপি প্রার্থী। এদিন রাত প্রায় ৭.৫০ মিনিট নাগাদ তিনি সবকগ্রে এবং নাবকগ্রে থেকে ভোট প্রচার শেষ করে উইলিয়ামনগরের বাড়িতে ফিরছিলেন। সে সময় সইলগ্রে সামান্দা এলাকার জনমানবশূন্য রাস্তায় আচমকা বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যান জনাথন সাংমা। সঙ্গে তাঁর দুই দেহরক্ষী ও সমর্থকও।
নির্বাচনে জনাথন সাংমাকে যাতে কেউ ভোট না দেন সে ব্যাপারে ফতোয়া জারি করেছিল জিএনএলএ-র এক অদৃশ্য সংগঠন। সংগঠনের নামে তাঁর নির্বাচন ক্ষেত্রে ব্যাপাক পোস্টারিংও করা হয়েছিল। এরই মধ্যে জনাথনকে প্রথমে বোমা বিস্ফোরণ এবং পরে ধারা গুলি ছোঁড়ে মেরে ফেলছিল জিএনএলএ ক্যাডাররা। এর পরই জঙ্গি সংগঠনের প্রধান সোহন ডি শিরাকে পাকড়াও করার কড়া নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। অভিযোগ, ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের পৃষ্ঠপোষকতায় তার বাড়বাড়ন্তে রাজ্যের সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। রাজ্য রাজনীতিতে জিএনএলএ-র অদৃশ্য প্রভাবে বিরোধী দলগুলি তটস্থ থাকত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *