BRAKING NEWS

স্বাস্থ্য নিয়াও রাজনীতি

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল দিনে দিনে কতখানি নিম্নগামী হইতেছে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী তাহা আর গোপন রাখিলেন না৷ ডাক্তাররা রাজ্যে থাকিতে চান না অন্যদিকে বহির্রাজ্য হইতেও আসিতে চান না৷ এই অবস্থায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল কতখানি উদ্বেগের তাহা বলিবার প্রয়োজন নাই৷ শনিবার ডক্টরস ডে উপলক্ষে আগরতলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলিয়াছেন, রাজ্যে চিকিৎসকদের বহু শূণ্যপদ পড়িয়া রহিয়াছে৷ কিন্তু, রাজ্য সরকার বহু চেষ্টা করিয়াও বহির্রাজ্য হইতে চিকিৎসকদের এই রাজ্যে আনিতে পারিতেছে না৷ তাঁহারা রাজ্য সরকারের অধীনে চিকিৎসা পরিষেবার কাজে নিয়োজিত হইতে চাহিতেছেন না৷ চিকিৎসকরা কেন এরাজ্যে আসিতে চাহিতেছেন না সে সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোলসা করিয়া না বলিলেও ইহা স্পষ্ট যে, ডাক্তারদের জন্য রাজ্য সরকারের বেতন খুবই কম৷ বহির্রাজ্যের চিকিৎসকদের এরাজ্যে না আসিবার পিছনে ইহাই সম্ভবত অন্যতম কারণ৷ যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবী করিয়াছেন চিকিৎসক স্বল্পতা সত্বেও রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়ন হইয়াছে৷ রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় জলবাহিত রোগে মৃত্যুর মিছিলের মতো ঘটনা ঘটে নাই৷

রাজ্যের দুইটি মেডিকেল কলেজ হইতে পাশ করা ডাক্তারদের ত্রিপুরায় চাকুরীর বিষয়ে রাজ্য সরকার যে চুক্তি করিয়াছিল তাহা পালিত হইতেছে না৷ রাজ্যে কর্মরত অনেক চিকিৎসকই ত্রিপুরায় থাকিতে চান না শুধু বেশী বেতনের জন্য এমনও বলা যাইবে না৷ কারণ উচ্চ শিক্ষা বা আরও বেশী অভিজ্ঞতা গ্রহণের তাগিদও সেখানে কাজ করে৷ ত্রিপুরায় রাজনীতির বেড়াজাল এমনই যে, এই জটিলতায় অনেক চিকিৎসকই স্বচ্ছতা বোধ করেন না৷ এখানে যোগ্য চিকিৎসকরা মর্যাদা পান না বলিয়াও অভিযোগ আছে৷ আর এজন্য মনের দুঃখে ত্রিপুরার কৃতি ডাক্তারকেও রাজ্য ছাড়িতে হইয়াছে৷ যতদিন চিকিৎসা পরিষেবা রাজনীতির অঙ্গুলী হেলনে চলিবে ততদিন এই পরিষেবার সার্থকতা মিলিবে না৷ রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবার পরিকাঠামোর অভাবের কারণে গত বছরই ছয়শতের বেশী রোগীকে বহির্রাজ্যে রেফার করিতে হইয়াছে৷ এই যখন অবস্থা তখন খুব স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যের গরীব অংশের মানুষ আজ বড় বেশী বিড়ম্বনার মধ্যেই আছেন৷ রাজনীতির মারপ্যাঁচ ইত্যাদির কারণে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার অধোগতি হইয়াছে৷

কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলায় একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়িবার নিমিত্ত দেড়শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়া দিয়াছে৷ এই হাসপাতাল নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়াছিলেন৷ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদলবাবু নাকি জানাইয়া দিয়াছেন কোন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কোনও নিয়ম রাজ্যে চালু নেই৷ ভিত্তিপ্রস্তর বা শিলান্যাসের জন্য যখন রাজ্য সরকার অনেক অনেক রাজ্য হইতে আগাইয়া রহিয়াছে সেখানে রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই অসত্য বক্তব্যের কি কোনও যুক্তি আছে? যদি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সত্যি হয় তাহা হইলে এই ‘রাজনীতির’ কোপানলই স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল অবস্থার জন্য দায়ী৷ যতদিন রাজ্য সরকার সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠিতে না পারিবে ততদিন এরাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল বেহাল হইয়াই থাকিবে৷ একথা সত্যি রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের জন্য বহু মানুষই উদগ্রীব হইয়া আছেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *