ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালানকারীদের ‘ব্যবসায়ী’ বলে দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে, মত সীমান্তবাসীদের
On 5 Jun, 2017 At 07:04 PM | Categorized As Prodhan Khobor | With 0 Comments

ভুবনেশ্বর, ৫ জুন (হি.স.) : ফের মাওবাদী হামলায় শহিদ হলেন এক জওয়ান| মৃত জওয়ানের নাম লক্ষ্মীকান্ত জানি| এবারের ঘটনা ওড়িশার কান্ধামাল জেলার খমঙ্কল জঙ্গলে| এই ঘটনায় জখম আরও তিন জওয়ান| পাশাপাশি আহত তিন জওয়ানের মধ্যে রয়েছে এইচএন তামাং, এস ওরেঞ্জ এবং গাড়ির চালক নিরঞ্জন বেহারা| তাঁদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে| এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে সেনা সূত্রে খবর| সোমবার সকাল থেকে কান্ধামাল জেলার খমঙ্কল জঙ্গলে স্পেশাল অপারেশন গ্রূপের সেনা জওয়ানরা মাওবাদীদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে| অভিযান শেষ করে সেনা ক্যাম্পে ফেরার সময় মাওবাদীদের সশস্ত্র একটি দল হামলা চালায় বলে জানা গিয়েছে| ঘটনাস্থলেই এক জওয়ানের মৃতু্য হয়| একই সঙ্গে গুরুতর আহত হন আরও তিন জওয়ান| আহতদের প্রথমে বালিগুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়| পরে বেহরামপুরের এমকেসিজি হাসপাতালে তাঁদের স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে খবর| হিন্দুস্থান সমাচার| সঞ্জয়|

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালানকারীদের ‘ব্যবসায়ী’ বলে দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে, মত সীমান্তবাসীদের
এমএ রহিম (ঢাকা), ৫ জুন (হি.স.) : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালানকারীদের ‘ব্যবসায়ী’ বলে দুটি বন্ধু রাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাৱুঝি তৈরি করা হচ্ছে| আর এ কাজে বাংলাদেশের মৌলবাদিরা গণমাধ্যমের এই মিথ্যা প্রচারকে কাজে লাগিয়ে ভারত বিরোধী প্রচারনার পালে হাওয়া দিচ্ছে বলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষরা মনে করছেন|
ভারতের সাথেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ভূমি রয়েছে সীমান্ত ঘিরে| ভারত-বাংলাদেশ চার হাজার একশত ৪৪ কিলোমিটার সীমান্ত ঘিরে| বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩০টি জেলার সাথে ভারতের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে| ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘিরে| তাই চোরাচালান,অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করার কাজও বেশ কঠিন| বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অপ্রতুলতায় প্রতিদিনই বাংলাদেশিদের ভারতে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে| আর অনুপ্রবেশ রুখতে গিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) বাংলাদেশের চোরাচালানীদের মুখোমুখি হতে হয়| এসময় অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশি চোরাচালানীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএসএফ-র উপর হামলা চালায়| আর তখনই জীবন বাচাঁতে বিএসএফকে গুলি চালাতে হয়| এতে আগে প্রতিদিনই সীমান্তে বাংলাদেশি চোরাচালানী হত্যার ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়| কিন্তু সীমান্তের চোরাচালানীদেরকে ‘ব্যবসায়ী’ বলে প্রচার করা হচ্ছে|
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সীমান্ত অনেকাংশে উন্মুক্ত ছিল| ছিলনা কোন কাঁটা তারের বেড়া| বেনাপোল, সাতক্ষীরা সহ দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের বিরাট অংশ ভারত বাংলাদেশের সীমান্তকে দু’ভাগ করেছে সীমান্তের ইছামতি-গঙ্গা ও কুদলা নদী| রাতারাতি ধনী হওয়ার আকাঙ্খায় বস্ত্র, অস্ত্র, মাদক, নারী ও শিশু পাচার সহ চোরাচালানির সাথে সীমান্তের অনেক যুবক জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ| বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকার অনেকেই সোনা, অস্ত্র, মাদক ও বস্ত্র সহ বিভিন্ন পন্য চোরাচালানী করে রাতারাতি ধনীও বনে যায়| বেড়ে যায় সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডও| এরই মধ্যে বাংলাদেশে আস্তানা তৈরি করে ভারত বিরোধী অসমের, উলফা, আলফা, নাগাল্যান্ডের নাগা, মনিপুরের মনিপুর আর্মি, ত্রিপুরার ত্রিপুরা লিবারেশন ফ্রন্ট (টিফ্রা) সহ বেশকিছু সশস্ত্র উগ্রপনী্ গ্রুপ| আর বাধ্য হয়েই ১৯৯৬ পরবর্তীতে ভারত সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মানের পরিকল্পনা নেয়| কয়েক বছরের ব্যাবধানে পর‌্যায় ক্রমে সীমান্ত সড়ক নির্মানসহ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়| বিপাকে পড়ে যায় চোরাচালানীরা| ২০০০ সাল পরবর্তীতে সীমান্তের বিভিন্ন চোরাই পথে ভারত থেকে পাচার শুরু হয় গরু ও মোষ| এতে বাংলাদেশ ভারতের চোরাকারবারী লাভবান হলেও বিশেষ করে বিপদে পড়ে ভারতের সীমান্ত এলাকার কৃষক পরিবারগুলো| চোরাকারবারীরা বিভিন্ন রাজ্য থেকে আনা গরুর সাথে ভারতীয় সীমান্তের কৃষকদের গরুও রাতের আঁধারে বাংলাদেশে পাচার শুরু করে| চোরাকারবারীদের প্রলোভনে পড়ে বেশি লাভের আশায় সীমান্তের অনেক বাংলাদেশি যুবক গরু আনতে ভারতে গিয়ে বিএসএফের হাতে মারা যায়| জানা গিয়েছে, তিনবছরে যশোর ও সাতক্ষিরা সীমান্ত দিয়ে আসা ১০ থেকে ১৫ জন বাংলাদেশি যুবক মারা গিয়েছে| বাংলাদেশে আওয়ামী লিগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সোহার্দ্য ও সম্প্রীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়ন অনেকাংশে বেড়েছে| অপরদিকে বাংলাদেশের বিজিবির প্রাক্তন মহা পরিচালক আব্দুল আজিজ সীমান্ত এলাকা পরির্দর্শন করে সীমান্তে ওয়াচ টাওয়ার নির্মান টহল ও নজরদারী জোরদার সহ বিজিবি বিএসএফ-এর যৌথ টহলের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন| বিশেষ করে রাতের বেলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবি সহযোগিতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়|
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গরু পাচার বন্ধে বাংলাদেশে গরু পাচারের প্রধান রুট বেনাপোলের পুটখালি সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আংরাইল বিএসএফ ক্যাম্প ও সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী এলাকা পরিদর্শন করেন| গরু পাচার রুখতে ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন বিএসএফকে| প্রয়োজনে গরু পাচার রুখতে গুলি চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে| এরপর থেকেই পুটখালি সীমান্তের বিপরীতে আংরাইল সীমান্তে বিএসএফ টহলবৃদ্ধিসহ কঠোরহাতে চোরাচালান বন্ধে কাজ শুরু করেছে|
বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, ভারতীয় কোন নাগরিক চোরাইপণ্য নিয়ে বাংলাদেশ ভুখন্ডে আসে না| বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা ভারতে গিয়ে নিয়ে আসে| বিএসএফ বাধা দিলেই অনেক সময় তাদের উপর হামলা করে চোরাকারবারীরা| এসময় বিএসএফ বাধ্য হয়েই হামলা চালায় তাদের উপর| এসময় ঘটে হতাহতের ঘটনা| তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হলে বিজিবির সংখ্যা ও নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে| আর বিজিবি ভারতে থেকে চোরাই পথে চোরাচালানীদের কাছে সীমান্তের বিভিন্ন অংশ বন্ধ করতে হবে| চোরাকারবার বন্ধ হলে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে| সীমান্ত এলাকার মানুষের আতঙ্ক ও উত্কন্ঠাও কমবে| আর এর ফলে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি অটুট থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে|

Leave a comment


Powered By JAGARAN – The first daily of Tripura ::: Design & Maintained By CIS SOLUTION